সম্পর্কের অবনতি স্বীকার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চায় বিসিবি
ফাইল ছবি
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ফের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পেশাদার সম্পৃক্ততা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ এক মাস আগে বিশ্বকাপ শেষ হলেও দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি। মূলত স্থগিত থাকা দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি দুই বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনাই এই চিঠির মূল লক্ষ্য।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন ফাহিম এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আসন্ন সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের সূচি বহাল রাখা এবং নারী দলের স্থগিত সফর পুনরায় নির্ধারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বিসিবির এই পদক্ষেপটি সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত এবং বাস্তবমুখী প্রয়াস।
গত জানুয়ারি মাসে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে ফাটল ধরে। সেই সময় সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, যা বিসিসিআইকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এমনকি তৎকালীন সময়ে ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরেও ভারতকে নিয়ে নানা তীর্যক মন্তব্যের ঘটনা ঘটে, যা সম্পর্কের তিক্ততা চরমে নিয়ে যায়। এই শীতল যুদ্ধের প্রভাবেই নিগার সুলতানার দলের ভারত সফর বাতিল করে দেয় বিসিসিআই।
আরও পড়ুন: অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেই জরিমানা: পিসিবি
বিসিবির বর্তমান নেতৃত্ব মনে করছে, বৈশ্বিক ক্রিকেটের বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে ভারতের সফর থেকে বিসিবির যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হওয়ার কথা, তা অন্য যেকোনো সিরিজের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ানডে এবং ৯ সেপ্টেম্বর থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। তবে সম্পর্কের উন্নয়ন না হলে এই সিরিজ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছিল।
চিঠির বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে নাজমূল আবেদীন বলেন, বিসিসিআইকে পাঠানো চিঠিতে মূল লক্ষ্য ছিল সূচিতে থাকা সিরিজগুলো নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি আমরা আরও বেশি সম্পৃক্ততা বাড়াতে চাই এবং অন্যান্য ইভেন্ট করা যায় কি না, সে বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা জানি বিশ্বকাপের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছে। আমরা দ্রুতই তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার আশা করছি।
সম্পর্ক উন্নয়নের এই প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন, যা সম্পর্কের বরফ গলার লক্ষণ হিসেবে দেখছে বিসিবি।
তবে বিসিসিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ভেন্যু নির্ধারণের মতো বড় সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তারা ভারত সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।
আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজকও বাংলাদেশ। যদি বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কা বা আরব আমিরাতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন বিসিসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক জবাবের দিকে, যা নির্ধারণ করবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই শক্তিধর ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








