News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:২১, ৯ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিবাদে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। 

বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেল থেকে এই প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, 'যুদ্ধ' ও 'যুদ্ধবিরতি' একসঙ্গে চলতে পারে না। 

তেহরানের অভিযোগ, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তার মধ্যে অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করেছে পশ্চিমারা। বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধ রাখা এবং ইরানের ভেতরে ড্রোন হামলা না চালানোর শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। 

আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন বল আমেরিকার কোর্টে। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তার অপেক্ষায় বিশ্ব।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের উপস্থিতি নেই। বুধবার সকালে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি ইরানি ও একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে প্রণালি পার হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে হামলার খবর আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজ চলাচল ধীর করে দেয় এবং রাত ১০টা নাগাদ তা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে। এমনকি পথিমধ্যে থাকা জাহাজগুলোকেও মাঝপথ থেকে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননে একদিনে নিহত ২৫৪

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার লেবাননে ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ভয়াবহতম বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় অন্তত ১০০টি স্থানে বোমা বর্ষণ করা হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের দেওয়া তথ্যমতে, এই রক্তক্ষয়ী হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

এদিকে, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে, লেবাননের পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। তবে তেহরান এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার মূল শর্তই ছিল লেবাননসহ পুরো 'প্রতিরোধ ফ্রন্ট'-এর ওপর হামলা বন্ধ রাখা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আমেরিকা আগ্রহী। কিন্তু নতুন করে এই পথ বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইসরায়েল যদি হামলা বন্ধ না করে তবে তারা চুক্তি থেকে স্থায়ীভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে এবং ইসরায়েলের দখলকৃত অঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই সংঘাতের নতুন মাত্রা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে শত শত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে সমুদ্রে আটকা পড়ে আছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়