ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে লেবাননে ব্যাপক হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলেও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল স্পষ্ট ঘোষণা করেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় নেই।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য সমর্থন প্রকাশ করেছে। তবে দুই সপ্তাহের এই বিরতি কেবল ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, লেবাননে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, লেবাননকে নিয়ে তারা কোনো রকম প্রতিদান বা সীমাবদ্ধতা মানবে না এবং দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আরও সেনা মোতায়েন করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে টায়ার, নাবাতিয়েহ, বারাআচিট ও সিদন শহরে বিস্তীর্ণ ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সিদনের ভোরের হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়। হামলার মধ্যে একটি ড্রোন সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা ও ব্যস্ত ক্যাফে লক্ষ্য করে আঘাত হানে, যার ফলে গাড়ি ও ক্যাফেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। হিরাম হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানে তারা হামলার একটি পর্যায় শেষ করেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী সেখানে যুদ্ধবিরতি পালন করছে। তবে লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক স্থাপনার ওপর আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: একনজরে ৪০ দিনের লড়াই ও প্রাণহানি
আইডিএফ দাবি করেছে, লেবানন থেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানো ও হিজবুল্লাহর আক্রমণাত্মক সক্ষমতা দমন করাই মূল লক্ষ্য।
লেবাননের দাহিয়েহ উপশহরসহ দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তৎক্ষণাৎ সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদ্রেই এক পোস্টে জানান, লেবাননের জন্য যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয় এবং মানুষকে জাহরানি নদীর উত্তর দিকে সরিয়ে নিতে হবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমি এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে ইসরায়েল এই বিবৃতির সঙ্গে একমত নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার প্রতিশোধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সময়ে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি স্থগিত করা হয়েছে।
বর্তমানে লেবাননে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,৫৩০ জন, যার মধ্যে ১৩০ শিশু, এবং আহতের সংখ্যা আরও হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








