২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে হামের টিকাদান শুরু: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ৩ মে’র পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যু বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় গুদামে টিকার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, সরকার শূন্য মজুত থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি জানান, আগের সরকারের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাতের কারণে এ সংকট তৈরি হয়।
সংকট মোকাবিলায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করে হাম-রুবেলাসহ জরুরি টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১৯ কোটি টাকার টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকার টিকা আনা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে সিঙ্গেল ডোজের পরিবর্তে ১০ ডোজের মাল্টিডোজ ভায়াল ব্যবহারে যাচ্ছে সরকার।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী হামে নিশ্চিতভাবে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা চিহ্নিত হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, গ্যাবির (Gavi) মাধ্যমে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে টিকার মজুত স্থিতিশীল রয়েছে। ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
এদিন অধিবেশনে স্বাস্থ্য খাতের জনবল ও বকেয়া বেতনের বিষয়ও উত্থাপিত হয়। জবাবে মন্ত্রী জানান, পোর্টারদের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








