সারাজীবন চারুকলার শিক্ষার্থী থাকতে চান বিপাশা
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম দেখায় যেন বিশ্বাসই হতে চায় না। এতটা সাধারণ! কিন্তু কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকলেই বোঝা যায়, তিনি এখানে তারকা হয়ে আসেননি; এসেছেন একজন শিল্পী হয়ে। তিনি বিপাশা হায়াত।
নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপন মনে রং করছেন মুখোশে, কখনও নকশা নিয়ে আলোচনা করছেন, কখনও আবার হাসিমুখে কারও কাজ দেখে প্রশংসা করছেন। তার উপস্থিতিতে আশপাশের পরিবেশ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এক শিক্ষার্থী কৌতূহল সামলাতে না পেরে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, ‘আপনি তো বড় তারকা, এখানে?’
বিপাশা মৃদু হেসে জবাব দেন, ‘এখানে সবাই শিল্পী। আমি এখন শুধু একজন শিক্ষার্থী। রং মাখছি, শিখছি। পরিচয় পরে ভাবা যাবে।’ বুধবার চারুকলায় তার এই উপস্থিতি শুধু দর্শকদেরই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তৈরি করে আলাদা এক অনুপ্রেরণা।
১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে এই চারুকলাই তার শিল্পী হয়ে ওঠার সূতিকাগার। ১৯৯৮ সালে এখান থেকেই এমএফএ সম্পন্ন করেন তিনি। বহু বছর পর সেই চেনা আঙিনায় ফিরে যেন আবারও খুঁজে পেয়েছেন নিজের শেকড়, হারিয়ে যাওয়া তারুণ্যের দিনগুলো।
তিনি বলেন, ‘এই বিভাগ থেকে আমারা যারা বের হয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছি, বৈশাখ আসলেই আমাদের মন এখানে চলে আসে। এখনো এসে আমরা দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করি। তবে এখনো চরুকলার শিক্ষার্থী মনে হয়। সারাজীবন শিক্ষার্থী থাকবো।’
২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও দেশের প্রতি টান তাকে বারবার ফিরিয়ে আনে। তবে দীর্ঘদিন তিনি নিজেকে ক্যামেরার আড়ালেই রেখেছিলেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে ভেঙেছেন সেই নীরবতা। সেখানে নিজের অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং শিল্পচিন্তা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, অভিনয় থেকে সরে যাননি; বরং নিজের মনের মতো চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন।
আরও পড়ুন: অশালীন গান ও কুরুচিকর দৃশ্যায়নের অভিযোগ, আইনি জটিলতায় নোরা
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি খুব সেজেগুজে পর্দায় হাজির হতে চাই না। আমি চাই এমন চরিত্র, যেখানে ঘাম ঝরবে, কষ্ট থাকবে, মানুষের বাস্তব গল্প থাকবে।’ অভিনয়ে সাময়িক বিরতি থাকলেও রং-তুলির ক্যানভাসে তিনি সক্রিয়। নিয়মিত ছবি আঁকছেন, অংশ নিচ্ছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে।
গত বছর রাজধানীর গ্যালারি চিত্রক-এ আয়োজিত তার একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘প্রস্তরকাল’ দর্শক-সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পায়। চারুকলার বারান্দায় তার এই উপস্থিতি যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়। বিপাশা শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি মূলত একজন শিল্পী।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








