জেফরি এপস্টেইন ফাইলের পর জিজি হাদিদের প্রতিক্রিয়া
জিজি হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত
প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত নথিতে নিজের এবং বোন বেলা হাদিদের নাম আসায় অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন বিশ্বখ্যাত সুপারমডেল জিজি হাদিদ। এই নথিতে নাম থাকাকে ‘বিব্রতকর’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার বা তার পরিবারের কোনোকালেই কোনো প্রকার সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না।
এপস্টেইনকে ‘দানব’ হিসেবে অভিহিত করে জিজি জানান, এই বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে ‘অত্যন্ত ঘৃণিত ও অসুস্থ’ বোধ করিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত অসংখ্য গোপন নথি প্রকাশ করেছে। সেখানে ২০১৫ সালের একটি ইমেইল আদান-প্রদানে জিজি হাদিদ ও তার বোন বেলা হাদিদের নাম উঠে আসে।
নথিতে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি এপস্টেইনের কাছে হাদিদ বোনদের আকাশচুম্বী সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
জবাবে এপস্টেইন অত্যন্ত বিতর্কিত ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে লিখেছিলেন, তারা নির্দেশ মেনে চলে, বিষয়টি এতটাই সহজ। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত ২৯ মার্চ ইনস্টাগ্রামে এক ভক্তের সমালোচনামূলক মন্তব্যের জবাবে ৩০ বছর বয়সী এই সুপারমডেল নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
জিজি বলেন, কাউকে কোনোদিন দেখেননি, অথচ সেই ব্যক্তি আপনার সম্পর্কে এমন নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে কথা বলছে এটি দেখা খুবই ভয়াবহ। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ওই জঘন্য মানুষের সঙ্গে আমার কখনোই কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমি জীবনে কোনোদিন ওই দানবটির সঙ্গে দেখা করিনি।
আরও পড়ুন: রণবীর সিংয়ের জম্বি থ্রিলার ‘প্রলয়’, নায়িকা কল্যাণী প্রিয়দর্শন
জিজি মনে করেন, এপস্টেইন নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং মানুষের ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন, যার অংশ হিসেবেই হয়তো তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
এতদিন বিষয়টি নিয়ে কথা না বলার কারণ হিসেবে জিজি জানান, তিনি চাননি তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের যন্ত্রণার গল্পগুলো আড়ালে পড়ে যাক।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবেশে বড় হলেও আমার বাবা-মা আমাকে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখিয়েছেন। ২০১২ সালে বড় এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সাফল্য আমি নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছি। ওই ইমেইল যখন লেখা হয়েছিল, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২০-২১ বছর। সেই ফাইলে নিজের নাম থাকাটা আমার জন্য অত্যন্ত ডিস্টার্বিং।
উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন কুখ্যাত যৌন অপরাধী। ২০০৫ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন ব্যবসায় জড়িত করার অভিযোগ ওঠে। ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আবারও নাবালিকা পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ওই বছরের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের কারাগারে তিনি রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে নারী পাচারের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো জনসমক্ষে আসায় বিশ্বজুড়ে বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








