৫১ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে ২ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
ছবি: সংগৃহীত
দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত ৫১ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে দুটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) ভোরে জাহাজ দুটি বহির্নোঙরে অবস্থান নেয় বলে নিশ্চিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি জাহাজে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং অন্যটিতে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, মালয়েশিয়া থেকে আসা ‘সেন্ট্রাল স্টার’ (কোনো কোনো সূত্রে সেন্ট্রাল স্টোর হিসেবে উল্লিখিত) নামক জাহাজে ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন এবং ‘ইস্টার্ন কুইন্স’ নামক জাহাজে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এসেছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ১৮৩.৬ মিটার লম্বা ‘সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজটি গত বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে। আজ বিকেলের মধ্যে শক্তিশালী টাগ বোট ও অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে জাহাজটিকে পতেঙ্গার ৫ নম্বর ডলফিন জেটিতে বার্থিং করার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাস করা হবে।
জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, সরাসরি মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত এই অকটেন দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজ দুপুরের পর জাহাজটি জেটিতে ভেড়ানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া থেকে ৫১ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে আসছে দুই জাহাজ
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কেবল এপ্রিল মাসেই নয়, গত মার্চ মাসেও জ্বালানি সরবরাহে গতি ছিল। মার্চে মোট ৩৩টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে, যার মধ্যে ১৫টি তেলবাহী, ৮টি এলএনজি এবং ৯টি এলপিজি পরিবাহী জাহাজ ছিল। গত শুক্রবারও সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘ইয়ান জিং হে’ এবং মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামক দুটি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছিল।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ কারণে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং ও খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরও পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তত্ত্বাবধানে এই আমদানিকৃত জ্বালানি খালাস প্রক্রিয়া শেষ হলে দেশের শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতের জ্বালানি সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বহির্নোঙরে অবস্থান করা জাহাজ দুটি থেকে তেল খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








