কঠোর নিরাপত্তায় দুই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুই আসনেই ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এই দুই আসনে আজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই আসনেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে। তার মতে, প্রয়োজনের চেয়েও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকায় অনিয়মের সুযোগ নেই।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। তবে বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হয়ে তা ছেড়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ফলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত থাকায় সেখানে এখন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩৫টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এ আসনে বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল-আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ২৫০ সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১০টি র্যাব টিম, ১,৩২৭ জন পুলিশ এবং প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ ১৩ বিল পাস
অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৫১টি ভোটকক্ষে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মাসুদুর রহমান এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনের ২৮টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রায় ১৪০ সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, ১৪টি র্যাব টিম, ১,১৫৫ জন পুলিশ ও ১,৭০০-এর বেশি আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গুরুত্ব অনুযায়ী ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। দুই আসনে মোট ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া ইসির ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং স্থানীয় পর্যায়ে চার শতাধিক পর্যবেক্ষক নির্বাচন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। ভোটগ্রহণে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং প্রিজাইডিংসহ প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা মাঠে কাজ করছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। দুই আসনে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ৭ হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে প্রবাসী ১,২৮১ জন এবং দেশের ভেতরে ২,৪৫৫ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। শেরপুর-৩ আসনে প্রবাসী ৩৮৩ জন ও দেশের ভেতরে ৩,১৯০ জনের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনে মাত্র ৫ জন প্রবাসী এবং বগুড়া-৬ আসনে ২৩ জন প্রবাসী ভোট দিয়েছেন। দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে শেরপুর-৩ আসনে ১,০৯৫ জন এবং বগুড়া-৬ আসনে ৮৪৪ জন ভোট দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, দুই আসনেই কঠোর নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








