‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিল পাস
ফাইল ছবি
দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। একই দিনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাসের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এই আইন কার্যকর বলে গণ্য হবে। আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা বা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ বিরুদ্ধে হওয়া সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা থেকে স্থায়ী মুক্তি দেওয়া। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিদ্যমান সব অভিযোগ দ্রুততম সময়ে প্রত্যাহার বা বাতিল করা হবে। এছাড়া, এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না, যা আইনত ‘বারিত’ বা নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিলটি পাসের আগে এটি নিয়ে সংসদে আলোচনার সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বিলের কিছু সংজ্ঞায়ন নিয়ে আপত্তি জানান। বিলে ‘কমিশন’ বলতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’কে বোঝানো হয়েছে, যা নিয়ে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। এছাড়া বিলটিতে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজগুলো ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে আলাদাভাবে বিচার করা হবে।
আরও পড়ুন: নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাশ
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে গিয়ে ছাত্র-জনতা যে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তাকে আইনি বৈধতা ও মর্যাদা প্রদানই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, এই বিল পাসের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো এবং আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন ঘটল।
অধিবেশনের ১১তম দিনে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি ছাড়াও আরও চারটি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল’। এই সংশোধনীর ফলে সরকার এখন থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা লাভ করল। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত আইনি বৈধতা পেল।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই আইন পাসের পর মাঠ পর্যায়ে ঝুলে থাকা আন্দোলনকারীদের মামলাগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের প্রক্রিয়ায় চলে যাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








