News Bangladesh

জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৬, ১০ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সূর্যমুখি চাষে রেকর্ড পটুয়াখালীতে

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সূর্যমুখি চাষে রেকর্ড পটুয়াখালীতে

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীতে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখি চাষ। ভোজ্যতেল উৎপাদনের পাশাপাশি পশুখাদ্য, জৈবসার, প্রসাধনী উপাদান ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী ফুল হিসেবে এর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় কৃষকদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় সূর্যমুখি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহে তা ছাড়িয়ে ৩ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সূর্যমুখির বীজ থেকে উন্নতমানের ভোজ্যতেল পাওয়া যায়। তেল নিষ্কাশনের পর খৈল গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শুকনো কান্ড ও পাতা জৈবসার তৈরিতে কাজে লাগে।

দুমকি উপজেলার কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ধানের তুলনায় সূর্যমুখিতে খরচ কম, রোগবালাইও কম। বাজারে এর তেল ও খৈলের ভালো চাহিদা থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি।

বাউফল উপজেলার কৃষক মেহেদি হাসান জানান, আগে শুধু সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন সূর্যমুখি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

এদিকে সূর্যমুখির হলুদে মোড়া মাঠ দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। এতে কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বরিশাল থেকে আগত দর্শনার্থী রাবেয়া খাতুন বলেন, সূর্যমুখির ক্ষেত যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি এটি থেকে নানা ধরনের পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি জানাও আকর্ষণীয়।

বাউফল পৌর এলাকার দর্শনার্থী আল রাফি বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে সূর্যমুখি কৃষিভিত্তিক পর্যটনের বড় সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আমানুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখি একটি বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য ও লাভজনক ফসল। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি এটি গ্রামীণ পর্যটনেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন: পটুয়াখালীতে মুগডালের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে রবি মৌসুমে বিকল্প ফসল হিসেবে সূর্যমুখি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। বীজ থেকে তেল, খৈল থেকে পশুখাদ্য এবং অবশিষ্ট অংশ জৈবসার হিসেবে ব্যবহারের কারণে এটি কৃষকের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসল হয়ে উঠছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়