দেশের ২,৮৩৯ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
দেশের শিক্ষা খাতের অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে এখনো ২ হাজার ৮৩৯টি গ্রামে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশাল জনবলকে জাতীয়করণের বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই তথ্য দেন এবং বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোর তালিকাও সংসদে উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ঢাকায় ৭১৭টি, চট্টগ্রামে ৮১৮টি, রাজশাহীতে ৩৫৫টি, রংপুরে ৩৭টি, খুলনায় ৩৪১টি, বরিশালে ৪৫টি, সিলেটে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহে ২৬৬টি। এসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযোগী (৪ থেকে ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব) শিশুর সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ জন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয়তা ও নির্ধারিত শর্ত বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই অধিবেশনে শিক্ষা খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি কলেজে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত প্রভাষকের ৬৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। সদ্য সরকারিকৃত কলেজে নন-ক্যাডার প্রভাষকের শূন্য পদ ২ হাজার ৪১০টি। এছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ শূন্য এবং শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১ হাজার ৩৪৪টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ মিলিয়ে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৬০ হাজার ২৯৫।
তিনি বলেন, এসব শূন্য পদ পূরণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সরকারি কলেজে প্রভাষক নিয়োগের জন্য ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম, ৪৯তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সাশ্রয়ে অনলাইন ক্লাসের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিনির্ধারণী বিষয়, যা সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান নীতিমালা এবং জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশে ৩৪ হাজার ১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় সারা দেশে ২৪ হাজার ৩২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো ৪ হাজার ৫৯টি প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করা হয়নি। সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। চলতি অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে একটি স্কুল, একটি কলেজ এবং একটি বেসরকারি মাদ্রাসা বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে সমতা, অন্তর্ভুক্তি ও গুণগত উন্নয়নের নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না; বরং নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় সেখানে সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর পড়তে পারে।
সংসদে উপস্থাপিত এই তথ্যসমূহ দেশের শিক্ষা খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষা অবকাঠামোর ঘাটতি, শিক্ষক সংকট এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








