News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩০, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। অনলাইন নাকি অফলাইন ঠিক কোন পদ্ধতিতে ক্লাস চলবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার কথা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পিছিয়ে গেছে। 

রবিবার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে আলোচনার পর আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন যে, আজ রবিবার থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু হবে। 

তবে মন্ত্রী আজ স্পষ্ট করেন যে, মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা যাচাই এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিবিড় পর্যালোচনার প্রয়োজনে আরও দুই-একদিন সময় নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপিত হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে ‘ব্লেন্ডড লার্নিং’ বা মিশ্র পদ্ধতির পাঠদান সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসের মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সরাসরি (সশরীর) সেশন আয়োজনের প্রস্তাব করা হতে পারে। এক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় দিন ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনলাইনে ক্লাস চললেও শিক্ষকদের সশরীরে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ব্যবহারিক ক্লাসগুলো সশরীরেই অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয় পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশীজন অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে পুরোপুরি অনলাইনে না গিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ ও পরিবেশবান্ধব করতে সরকার বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রিক বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলো এসব বাস বিনা শুল্কে আমদানি করার সুযোগ পাবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে নতুন বাস আমদানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে, যা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও শপিংমলের সময়সূচিতেও পরিবর্তন এনে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কিনতে ঋণ প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ এবং জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। 

তবে মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, পাঠদান পদ্ধতিতে যে পরিবর্তনই আসুক না কেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেটিই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এখন বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়