‘সপ্তাহে ৩ দিন অফলাইন, ৩ দিন অনলাইন ক্লাস’
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশের মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পঠন-পাঠন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি (অফলাইন) এবং তিন দিন অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিতে হবে। আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকেই এই পাইলট প্রকল্পটি কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাজধানীর দনিয়া কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সূচি অনুযায়ী শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে সরাসরি ক্লাস করবে। অপরদিকে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, সপ্তাহজুড়ে অফলাইন ও অনলাইন—দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে পাঠদান চলবে।
তিনি বলেন, এটি একটি পাইলট প্রকল্প, যা আগামী সপ্তাহ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার দিকে অভ্যস্ত ও আগ্রহী করে তোলা। পাইলট পর্যায়ে সফলতা পেলে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ মডেল সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে পরীক্ষামূলক হাইব্রিড ক্লাসের পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এই উদ্যোগ আপাতত কেবল মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকার কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা হবে, বিশেষ করে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তবে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিরতা বা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেন তিনি।
অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ে উপস্থিত থেকেই পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। এ জন্য ওয়াইফাইসহ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর ও যুগোপযোগী রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি আগামীর প্রজন্মকে দক্ষ ও সক্ষম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নিমতলীর মতো কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না এবং সে ক্ষেত্রে পদত্যাগ করতেও তিনি বাধ্য হতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের নগরভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








