News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢামেকে চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ: বন্ধ জরুরি সেবা

ঢামেকে চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থী সংঘর্ষ: বন্ধ জরুরি সেবা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। 

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জরুরি রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ওষুধটি সরকারিভাবে হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় শিক্ষার্থীকে তা বাইরে থেকে কিনে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী তার বেশ কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং 'লিখে দেওয়া ওষুধ বাইরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না' এমন অভিযোগ তুলে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক ‘পেন গান’

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

এদিকে, জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা মুমূর্ষু রোগীরা মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন। অনেক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। চিকিৎসক নেতারা সাফ জানিয়েছেন, কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা জরুরি সেবা চালু করবেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়