News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২৫, ৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক ‘পেন গান’

রাজধানীতে নতুন আতঙ্ক ‘পেন গান’

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর অপরাধ জগতে এক নতুন ও ভয়াবহ মরণাস্ত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী ০.২২ ক্যালিবারের বুলেট। সম্প্রতি পুরান ঢাকায় এক রাজনৈতিক নেতাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এই ‘পেন গান’ বা ‘কলম পিস্তল’ ব্যবহারের তথ্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজারে দিনের আলোতে রাসেল নামের এক যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ যাত্রাবাড়ী থেকে সাইমন এবং কেরানীগঞ্জ থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় কাল্লুর কাছে থাকা একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতর থেকে এই বিশেষ অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পূর্বপরিচিতদের ডাকে নয়াবাজারের একটি বাসায় গেলে রাসেলকে এই পেন গান দিয়ে গুলি করা হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঘটনার পর হামলাকারীরাই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল ও পরে ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, এটি কোনো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এর আগে ঢাকায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড ডিবির কাছে ছিল না।

আরও পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

অস্ত্রটি দেখতে হুবহু সাধারণ কলমের মতো, যা সহজে পকেটে লুকিয়ে রাখা যায়। ওপরের পুশ-বাটন এবং সুচালো নিব থাকলেও এতে কালি থাকে না। একটি নির্দিষ্ট মোচড় দিয়ে বাটনে চাপ দিলে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি সাধারণত ০.২২ বা ০.২৫ ক্যালিবারের একটি সিঙ্গেল শট গুলি ছুড়তে সক্ষম। এতে রিমফায়ার বা সেন্টার-ফায়ার কার্টিজ ব্যবহৃত হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা এই মরণাস্ত্রটি ৮০ হাজার টাকায় ক্রয় করেছিল এবং আরও উচ্চমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

অস্ত্রটিতে কোনো কোম্পানির লোগো বা নির্দিষ্ট মার্কিং না থাকায় এর সঠিক উৎস নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে এসেছে।

পেন গানের ব্যবহার শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনার উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর হাতেও এই ধরনের ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সহজে শনাক্ত করা যায় না বলে এই অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ডিবির একাধিক দল এই অস্ত্রের কারিগর ও পাচারকারী চক্রকে শনাক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়