News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:০৯, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দায়িত্বের দ্বিতীয় দিনেই ক্রিকেটারদের মুখে হাসি ফোটালেন তামিম

দায়িত্বের দ্বিতীয় দিনেই ক্রিকেটারদের মুখে হাসি ফোটালেন তামিম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিলেন তামিম ইকবাল। 

বুধবার (০৮ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোর্ডের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন তিনি। 

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করে তামিমের নেতৃত্বে এই ১১ সদস্যের কমিটি।

ঘরোয়া নারী ক্রিকেটারদের পূর্বের নামমাত্র পারিশ্রমিক দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানান, নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক সময় মাত্র ১ হাজার টাকা ছিল, যা পরবর্তীতে ৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব থাকলেও তা অপর্যাপ্ত। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নারী ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য ১০ হাজার, ওয়ানডেতে ১৫ হাজার এবং লঙ্গার ভার্সন (২, ৩ বা ৪ দিনের ম্যাচ) ক্রিকেটে ২০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পাবেন। এছাড়া ঘরোয়া চুক্তিতে থাকা ৩৫ জন নারী ক্রিকেটারের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জাতীয় দলের চুক্তির সর্বনিম্ন ধাপ ৬০ হাজার টাকা হওয়ায় ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পারিশ্রমিকের ভারসাম্য বজায় রেখে এই বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বুলবুলের বোর্ড ভেঙে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

দীর্ঘ তিন-চার বছর ধরে ঘরোয়া পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন না বাড়ার স্থবিরতা ভেঙেছে এই সভায়। লঙ্গার ভার্সন বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক বেতনের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা পেতেন ৩৫ হাজার টাকা (মতান্তরে ২৮,৭৫০ টাকা), যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার টাকায়। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরির বেতন ২৩-৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির বেতন ১৭-২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বোর্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগকে পেশাদারিত্বের স্বার্থে বর্তমান অবস্থায় রেখে অন্যান্য বিভাগগুলো বণ্টন করা হয়েছে। তামিম নিজে ওয়ার্কিং কমিটি ও ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্যদের মধ্যে ফাহিম সিনহা (গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল), রফিকুল ইসলাম বাবু (গ্রাউন্ডস), তানজিল চৌধুরী (বয়সভিত্তিক ক্রিকেট), সালমান ইস্পাহানি (বিপণন ও শৃঙ্খলা), রাশনা ইমাম (নারী ক্রিকেট ও অভিযোগ কমিটি), ইসরাফিল খসরু (অর্থ ও সমাজকল্যাণ), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (নিরাপত্তা ও টেন্ডার), মিনহাজুল আবেদীন নান্নু (টুর্নামেন্ট কমিটি), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (লজিস্টিকস) এবং আতহার আলি খান আম্পায়ার কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন।

মাঠ সংকটের সমাধানকল্পে দ্রুততম সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলবদলের তারিখ ঘোষণা ও খেলা শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিসিবি সভাপতি। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন উন্নত একাডেমি মাঠ ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের। এছাড়া সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তামিম। ফ্লাডলাইটের ব্যবহার কমিয়ে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য ম্যাচ শুরুর সময় এগিয়ে আনা হতে পারে। মূলত ক্রিকেটারদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে দেশের ক্রিকেটকে একটি শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করানোই এই অ্যাডহক কমিটির প্রাথমিক লক্ষ্য।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়