আকাশছোঁয়া দামে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিট
ছবি: সংগৃহীত
মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো বাকি মাসখানেক, অথচ তার আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের বাজার। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন সাধারণ ফুটবল প্রেমীরা। বিশেষ করে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনাল ম্যাচের ‘ক্যাটাগরি-১’ টিকিটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ১৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার সমান। টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ফুটবল বিশ্বের সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফিফা এবারই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ (Dynamic Pricing) পদ্ধতি চালু করেছে। এই নীতি অনুযায়ী, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠানামা করে। এর ফলে গত ডিসেম্বরে ড্র হওয়ার পর যে ফাইনাল টিকিটের দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তা ২ হাজার ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু শীর্ষ ক্যাটাগরি নয়, ফাইনালের ‘ক্যাটাগরি-২’ টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা)। একইভাবে ‘ক্যাটাগরি-৩’ টিকিটের মূল্য ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা)।
মূল্যবৃদ্ধির এই প্রভাব পড়েছে উদ্বোধনী ও নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতেও। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও সৌদি আরবের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম ২ হাজার ৩৫৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৮৫ ডলার করা হয়েছে। সেমিফাইনালের টিকিটের দামও ৩ হাজার ২৯৫ ডলার থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৭১০ ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে। এছাড়া ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো বড় দলগুলোর ম্যাচ এবং কানাডার প্রথম ম্যাচের টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচের সর্বোচ্চ দামের টিকিটে (২,৭৩৫ ডলার) আপাতত কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
আরও পড়ুন: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে ভারতকে বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হুটহাট টিকিট ছাড়ার ফলে সমর্থকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিফার ওয়েবসাইটে কিউতে অপেক্ষা করতে হয়েছে। লটারি পদ্ধতি ও ‘ফার্স্ট-কাম-ফার্স্ট-সার্ভ’ ব্যবস্থায় অনেকেই দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। বুধবার টিকিট বিক্রির সাইট খোলার পর দেখা যায়, ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৭টি ম্যাচের টিকিট তালিকাভুক্ত ছিল এবং নকআউট পর্বের কোনো টিকিট তখন সহজলভ্য ছিল না। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভুল কিউ এবং ‘লাস্ট-মিনিট সেলস ফেজ’-এ প্রবেশের ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সমর্থকরা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দামে বিশ্বকাপ দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ফিফার এই বিতর্কিত টিকিট নীতির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসের ৬৯ জন ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ফিফার এই উচ্চমূল্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের কাছেও গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধি দল এই অতিরিক্ত দামের বিরুদ্ধে নালিশ দাখিল করেছে।
সমালোচনা সত্ত্বেও ফিফা জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন চাহিদা অনুযায়ী ধাপে ধাপে আরও টিকিট বাজারে ছাড়া হবে।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই বাণিজ্যিক মানসিকতা সাধারণ সমর্থকদের বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্নকে ফিকে করে দিচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








