News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫৮, ২ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিনিদের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের প্রশ্ন: এই যুদ্ধ কার স্বার্থে?

মার্কিনিদের উদ্দেশে পেজেশকিয়ানের প্রশ্ন: এই যুদ্ধ কার স্বার্থে?

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত ও ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি বিশেষ খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এবং প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। একইসঙ্গে, এই যুদ্ধে মার্কিন জনগণের প্রকৃত কোনো স্বার্থ জড়িয়ে আছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে ইরানের দীর্ঘ ইতিহাস ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, সম্প্রসারণ, উপনিবেশবাদ বা আধিপত্য বিস্তারের পথ বেছে নেয়নি। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই আগে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং যারা ইরানকে আক্রমণ করেছে, তাদের অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিপ্রতিহত করেছে মাত্র। ৫ হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার দেশ হিসেবে ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার পেছনে বহিরাগত স্বার্থ এবং ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খেয়ালখুশি কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

তার মতে, অস্ত্র শিল্প টিকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি ‘কৃত্রিম শত্রু’ তৈরির প্রয়োজন থেকেই ইরানকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা ঐতিহাসিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের সম্বোধন করে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন সরকার ইসরায়েলের প্রভাবে এবং প্রলোভনে পড়ে এই সংঘাতে অংশ নিয়েছে কি না। 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবি নাকচ করল তেহরান

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার ইরানে হামলা চালানো সত্ত্বেও আমরা সাধারণ মার্কিনিদের শত্রু বলে বিবেচনা করিনি। আমি জানতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র কি এখনও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে? এই যুদ্ধের সঙ্গে কি সেই নীতির কোনো সংগতি আছে? 

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামো এবং সাধারণ জনগণের ওপর আক্রমণ যুদ্ধাপরাধের শামিল। এই অস্থিতিশীলতা, প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বহুদূর পর্যন্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিস্তৃত হবে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সংলাপ শেষ হয়। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে মোট ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই মার্কিন জনগণের জনমতকে প্রভাবিত করতে এই খোলা চিঠি পাঠালেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়