News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:১৩, ২ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবি নাকচ করল তেহরান

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবি নাকচ করল তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করলেও তা কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এদিকে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও মন্দার মুখে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার (০১ এপ্রিল) ট্রুথ সোশালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট তার কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। 

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দ্রুত এ দাবি অস্বীকার করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

আরাগচি বলেন, চলমান সংঘাত তখনই বন্ধ হবে, যখন আগ্রাসী পক্ষকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তিনি পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে মিডিয়ার কল্পনা উল্লেখ করেছেন। এর আগেও ট্রাম্প বহুবার ইরান থেকে যুদ্ধবিরতির অনুরোধের দাবি করেছেন, কিন্তু বারবার তা তেহরান উড়িয়ে দিয়েছে। বরং ইরান দীর্ঘ ছয় মাসের সম্ভাব্য ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে বারবার জানিয়ে আসছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। 

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা দেখা দিতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট উল্লেখ করেছে, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে সরানোর বিষয় পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। 

তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব মিত্র দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই ইউরোপকে আর নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ইরান ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে একযোগে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে তারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ধ্বংস হয়েছে বহু অবকাঠামো। পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ইরান বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, এবং ইসরায়েলে স্মরণকালের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে, ট্রাম্পের অপসারণ ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দাবিতে হাজার হাজার মার্কিনি আন্দোলন করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি ট্রাম্পকে আরও অস্বস্তিতে ফেলেছে।

একই দিনে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণের শুরুতে তিনি নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফল উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নভোচারীদের সাহসী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। এরপর তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের বেশির ভাগ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধের মিত্র দেশগুলো বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অসাধারণ কাজ করেছে এবং তাদের ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প বলেন, ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চলমান যুদ্ধে বিনিয়োগকে ‘সফল’ দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরো দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং অন্যান্য দেশের উচিত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্পের ভাষণ ইরানীদের আলোচনায় বসাতে বাধ্য করবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইরানি নেতারা হয়তো একই ধরনের প্রতিরক্ষা ও প্রতিশোধমূলক কৌশল অব্যাহত রাখবেন এবং যুদ্ধবিরতির কোনো আলোচনা হবে না বলে জোর দিয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন জনগণকে বলেছেন, তার দেশের কোনো শত্রুতা নেই। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সামরিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার শর্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়