কিছু সময় পেলেই হরমুজ খুলে দেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও আলটিমেটাম আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই এই অবরুদ্ধ জলপথটি খুলে দিতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন সামরিক ও অর্থনৈতিক হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, সামান্য সময় ও সুযোগ পেলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবে। তিনি একে বিশ্ববাসীর জন্য তেলের একটি ‘বিশাল উৎস’ বা ‘গাশার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। যদিও পরবর্তীতে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বলে তিনি সেই সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরণের আলোচনার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০টি দেশের একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ইরানের অবরোধকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ‘জিম্মি দশা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে এই নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও রহস্যজনকভাবে এই জোটে অংশ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাব মার্কিনিদের পকেটে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। এমনকি তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন হুঙ্কার ও আন্তর্জাতিক জোটের চাপের মধ্যেই সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, গত বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ পার হয়েছে, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি। তবে এই চলাচলের পেছনে মার্কিন চাপের চেয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। লারাক দ্বীপের রুট ব্যবহারকারী এই জাহাজগুলো তেহরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই পথ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম, তবুও এটি নির্দেশ করছে যে অনেক দেশই বর্তমানে বিকল্প পথে ইরানের সঙ্গে সমঝোতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের এই রুটটি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকে অনেক বিশ্লেষক অতি-সরলীকরণ হিসেবে দেখছেন।
বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিকভাবে হরমুজ প্রণালি দখল বা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জটিল, কারণ এই অঞ্চলে ইরানের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি একটি উন্মুক্ত নৌপথ হওয়ায় একক কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা আইনি ও কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বদলে বরং বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








