News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:০১, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরও দুইজনের ফাঁসি

ইরানে বিক্ষোভ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরও দুইজনের ফাঁসি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে ‘বিদেশি শক্তির এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 

রবিবার (০৫ এপ্রিল) ভোরে মোহাম্মদ-আমিন বিগলারি এবং শাহিন ওয়াহেদপরাস্ত (ভাহেদপারস্ত)-এর ফাঁসি কার্যকর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা ‘মিজান অনলাইন’।

দেশটির বিচার বিভাগ ও আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্যানুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালে তারা তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালান এবং সেখানকার অস্ত্রাগার দখলের চেষ্টা ও অগ্নিসংযোগ করেন। 

মামলার নথিতে তাদের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা ‘শত্রু এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনঃপর্যালোচনা করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার পরই এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষদিকে অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চরমে পৌঁছালে এটি ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর অন্যতম রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়, যাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সমাবেশগুলো শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে বিদেশি উস্কানিতে দাঙ্গায় রূপ নেয় এবং সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিদেশি এজেন্টরা এতে অনুপ্রবেশ করে।

এদিকে, সরকারবিরোধী তৎপরতার দায়ে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহেই আমির হোসেন হাতামি নামে এক কিশোর বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। 

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ এপ্রিল গজল হেসার কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জানুয়ারির বিক্ষোভের পর থেকে এ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও বিক্ষোভ সংশ্লিষ্টতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে আলী ফাহিম এবং আবুল ফজল সালেহি শিয়াভাশানি নামক আরও দুই কারাবন্দীর জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

ভিন্নমত দমনের এই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার নিষিদ্ধ ঘোষিত বিরোধী সংগঠন ‘পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন অব ইরান’ (এমইকে)-এর দুই সদস্য আবোলহাসান মন্তাজের এবং ভাহিদ বানিয়ামেরিয়ানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর আগে গত ৩০ ও ৩১ মার্চ একই সংগঠনের আরও চার সদস্য মোহাম্মদ তাঘাভি, আকবর দানেশভারকার, বাবাক আলিপুর এবং পুয়া ঘোবাদির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এমইকে এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুদণ্ডগুলোকে বিরোধীদের চুপ করানোর ‘ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনাগুলো দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়