প্রশিকায় দুর্নীতি, আন্দোলনের ডাক কর্মীদের
ঢাকা: প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহমেদের বিভিন্ন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং একাধিপত্যের কারণে কর্মচারী ও কর্মকর্তারা সোচ্চার হয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিকা থেকে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তারা।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরার পাশপাশি এ আন্দোলনের ডাক দেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রশিকার উপ পরিচালক মো. ইনছার আলী পাশা। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে কর্মীরা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে নিজের ও পরিবারের চিকিৎসা করাতে না পেরে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রশিকার তিন হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পদত্যাগ করা ও চাকরিচ্যুত কর্মীদের কর্মী কল্যাণ তহবিল হতেও কোনো টাকা পয়সা দেয়া হচ্ছে না। এসব টাকা পয়সা চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, কাজী ফারুকের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০০৯ সালের ২৪ মে গভর্নিংবডির এক জরুরি সভায় তাকে পদচ্যুত করে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদকে প্রশিকার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর প্রায় ৩ বছর পরে অর্থাৎ ২০ মে ২০১২ তারিখে সকাল বেলা কাজী ফারুক প্রায় ২০০ বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে প্রশিকার দখল নেন। কর্মীরা এসময়ে সন্ত্রাসী হামলা ও মামলার ভয়ে কিছুই করতে পারেন নি। ক্ষমতা দখল করেই আবার শুরু করেন দুর্নীতি।
কর্মীদের বেতনভাতা না দিয়ে (২ মে ২০১২ থেকে ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখ) পর্যন্ত মাঠ পর্যায় থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা উত্তোলন করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন উল্লেখ করে ইনছার বলেন, “এর মধ্যে রাজশাহী উন্নয়ন ব্যাংক থেকে এনসিডিপি প্রকল্পের ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মধ্যে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা বিতরণ করে বাকি (২কোটি ৪৩ লাখ) টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও শ্রীপুর উন্নয়ন এলাকার প্রশিকার জমি বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রশিকার বিভিন্ন সমিতিরও ৯ লাখ ৪০ হাজার সদস্যের সঞ্চয় ১৯০ কোটি টাকা, কর্মীদের কল্যাণ তহবিলের ১৮০ কোটি টাকাসহ মোট ৩৭০ কোটি টাকার হদিস নেই।”
প্রশিকাকে কাজী ফারুকের হাত থেকে রক্ষা করে সাধারণ কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কাছে সহায়তা চেয়ে তিনি জানান, বর্তমানে প্রশিকার মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৭৮৩ কোটি টাকা। অপরদিকে দেনার পরিমাণ প্রায় ৫০৭ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রশিকার উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, পরিচালক-সিরাজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মো. সোলায়মানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কর্মী ও ব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিআইএস/এমএম
নিউজবাংলাদেশ.কম








