News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:২৬, ২৬ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ০৯:২৭, ২৬ মার্চ ২০২৬

পদ্মায় বাসডুবি: ২৩ মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে ২ কমিটি

পদ্মায় বাসডুবি: ২৩ মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে ২ কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৪ জন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় একটি ফেরি এসে পন্টুনে জোরে ধাক্কা দিলে পন্টুনটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রীসহ বাসটি সরাসরি গভীর পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নেয় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। পাশাপাশি নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালায়। দুর্ঘটনার প্রায় ৬ ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টার দিকে পানির নিচ থেকে বাসটি টেনে তোলা সম্ভব হয়। বাসটি উদ্ধারের পর ভেতর থেকে ১৭ জনের মরদেহ বের করে আনা হয়। এর আগে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ১০-১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নদী থেকে আরও ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে যাত্রীবাহী বাস, নিখোঁজ অর্ধশত

নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রাজবাড়ী পৌরসভার রেহেনা আক্তার (৬১), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহা আক্তার (১১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০) ও তাজবিদ (৭); কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), ইস্রাফিল (৩) ও আয়েশা সিদ্দিকা (১৩); গোয়ালন্দের মর্জিনা আক্তার (৩২) ও সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২); কালুখালীর ফাইজ শাহানূর (১১), নাজমিরা জেসমিন (৩০) ও আব্দুর রহমান (৬)। এছাড়াও নিহত হয়েছেন বাস চালক আরমান খান (৩১), রাজবাড়ী সদরের লিমা আক্তার (২৬), জোস্ন্যা (৩৫) ও সাবিত হাসান (৮) এবং গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুরের নাছিমা (৪০), ঢাকার আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০) ও ঝিনাইদহের ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি উদ্ধার কাজ তদারকি করেন এবং নিহতদের দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমান পৃথক বার্তায় এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার অভিযানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি এবং রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়