ভর্তুকিতে পাম তেলসহ ৫ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন
ফাইল ছবি
দেশের নিম্নআয়ের এক কোটি কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত পাম তেল এবং ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ১০ ধরনের ভেকসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এ তেল সংগ্রহে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি লিটার পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৩ টাকা ৪৮ পয়সা।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাঁচটি লটে এক কোটি লিটার পাম তেল কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং সবগুলো প্রস্তাবই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজকে নির্বাচিত করে টিইসি। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ নির্ধারিত এই মূল্যেই তেল সরবরাহ করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্য তেল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ কোটি ৫ লাখ লিটার তেল ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১১ জুন সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন
একই বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ইপিআই কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০ ধরনের রুটিন ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে, যার জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০৪ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ টাকা। মাঠপর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৪৭৬ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১ কোটি ৪২ লাখ ৯১ হাজার ২৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
সার সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯ টাকা।
অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসপিসি পোল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে উভয় প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে টিইসি’র সুপারিশের ভিত্তিতে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং, কনটেক কনসালট্যান্ট, টিএসসিও পাওয়ার এবং পাশা পোলসের যৌথ উদ্যোগ থেকে ৬৩ হাজার ১৭৭টি এসপিসি পোল ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৯৩৫ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








