দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে যাত্রীবাহী বাস, নিখোঁজ অর্ধশত
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদী পার হওয়ার জন্য ৩ নম্বর পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সময় সজোরে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় পন্টুনে থাকা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, একটি ফেরি ছেড়ে যাওয়ার পর বাসটি পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু আকস্মিক ধাক্কায় চোখের সামনেই বাসটি ডুবে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
বাসটিতে থাকা যাত্রীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বাসটিতে ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থীর গুলিতে ছোট ভাই নিহত
তবে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, যাত্রী সংখ্যা ছিল ৪০ থেকে ৪৫ জনের মতো। বাসটি ডুবে যাওয়ার পরপরই ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন, ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে অধিকাংশ যাত্রীই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, তারা উদ্ধার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।
বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়ছে এবং নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ঘাটের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ হলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








