News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ২৩ মার্চ ২০২৬

মিঠামইনে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৩০

মিঠামইনে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল উপজেলা মিঠামইনে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের হেমন্তগঞ্জ এলাকায় এই সংঘাত চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাতের বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেওয়ারজোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কাশেমের সমর্থকগোষ্ঠীর সাথে একই গ্রামের বিএনপি নেতা নজিরের অনুসারীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে ঈদের আগে থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। 

অভিযোগ রয়েছে, কাশেম চেয়ারম্যানের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে ঈদের নামাজের পরপরই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় রবিবার রাত থেকেই প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে লাউকুড়ার মাঠে উভয় পক্ষ কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হতাহত ও চিকিৎসাধীনদের অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে নজির গ্রুপের অন্তত ২১ জনসহ মোট ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আসাদ (৩৫) ও কাতল মিয়া (৩০) নামে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৫ জনকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেপরোয়া গতিতে বিষাদ ঈদ আনন্দ, পঙ্গু হাসপাতালেই ভর্তি ৪০০

নেপথ্যের কারণ ও স্থানীয় অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কাশেমের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ইতালির নাগরিক এবং মাঝেমধ্যেই সেখানে অবস্থান করেন। এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক বৈরিতার কারণেই নজির গ্রুপের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ অভিযোগ করেছে। তবে এই সংঘাতের বিষয়ে কাশেম গ্রুপের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি খবর পেয়ে মিঠামইন থানার পুলিশ এবং কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়