News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৫০, ২১ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১২:৫২, ২১ মার্চ ২০২৬

ভৈরবে কুকুরকে ঢিল মারা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০, আটক ৭

ভৈরবে কুকুরকে ঢিল মারা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২০, আটক ৭

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় একটি কুকুরকে ঢিল মারাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায় এবং এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিপুর গ্রামের জারুল্লা বংশের শ্রাবণ মিয়ার পোষা কুকুরকে ঢিল মারাকে কেন্দ্র করে জুরাত ব্যাপারী বাড়ির সোহেল মিয়ার সঙ্গে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। সন্ধ্যার পর স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং জারুল্লা বংশের লোকজনের মধ্যেই বিভক্তি তৈরি হয়।

একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বিন্দির বাড়ি ও জুরাত ব্যাপারী বাড়ি এই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তারা দা, লাঠি, বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সাবেক কাউন্সিলর আশরাফ আলীর বাড়িসহ অন্তত ১০টি বসতঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: বিড়ির ধোঁয়া নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘর্ষ, আহত ৭

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন সীমান্ত (২০), রাহুল মিয়া (২৩), কাউসার (৪৭), রিফাত সরকার (২৬), নীরব আহমেদ (১৭), জুবায়ের আহমেদ (১৪), আব্দুল আওয়াল (৫২), আলী হোসেন (৫২), ইমন (১৩), সজীব মিয়া (২০), সিয়াম (১৮), আহাদ মিয়া (৪৫), নাঈম (১৮) ও ইব্রাহীম (১৭)। গুরুতর আহত সজীব ও সিয়ামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রিপন দেবনাথ জানান, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এম রহমান বলেন, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তারা অবগত নন, তবে তার দোকানসহ আশপাশের একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি করেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আফসার উদ্দিন বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং স্থানীয়দের মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

কিশোরগঞ্জ (ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংঘর্ষ-পরবর্তী সময়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়