News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩২, ১৯ মার্চ ২০২৬

নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন?

ফাইল ছবি

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর এক ভিন্ন আমেজে দেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবারের ঈদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাজধানী ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় একই জামাতে শরিক হবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সপরিবার দেশে ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, নারীদের জন্য থাকবে আলাদা সুবিধা।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, নামাজ শেষে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-য় অবস্থান করবেন। সেখানে তিনি বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। পরে তিনি শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি নতুন সরকারের প্রথম ঈদ হওয়ায় বিএনপির মধ্যে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় ঈদ করবেন এবং পরদিন ঠাকুরগাঁও যাবেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লা, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী মাগুরা, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল এবং খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কুমিল্লায় ঈদ করবেন।

অন্যদিকে, অনেক নেতা ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় শেষে নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। আবার কেউ কেউ এলাকায় ঈদ উদযাপন শেষে একই দিনে রাজধানীতে ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থতার কারণে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে, ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে, সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জে নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া বরকতউল্লা বুলু নোয়াখালী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশাল এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে ঈদ উদযাপন করবেন।

যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ এবং আবদুস সালাম আজাদ মুন্সিগঞ্জে ঈদ করবেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতারাও দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বরগুনা, হুইপ জি কে গউছ হবিগঞ্জ, রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা এবং অন্যান্য সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-এ ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দলটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও কেউ ঢাকায়, কেউ নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসা মসজিদে ঈদের নামাজের ইমামতি করবেন। একইভাবে খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সার্বিকভাবে, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং সারা দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদুল ফিতর কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনসম্পৃক্ততার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়