News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ১৯ মার্চ ২০২৬

উত্তরায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

উত্তরায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

নিহত মুক্তা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ। 

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে চলন্ত রিকশা থেকে ব্যাগ ধরে টান দিলে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে দেশের চারটি হাসপাতাল ঘুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মুক্তা আক্তার তার স্বামী লিমন হোসেনের সঙ্গে দক্ষিণখান ফায়দাবাদ (মতান্তরে হায়দাবাদ) এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বছর আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির ঈদ শপিংয়ের পরিকল্পনা ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুক্তা ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে মিরপুর পল্লবীর একটি শপিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রিকশাটি উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকার থেকে ছিনতাইকারীরা মুক্তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ লক্ষ্য করে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় আছড়ে পড়েন এবং মাথায় ও কপালে গুরুতর আঘাত পান।

আরও পড়ুন: খুলনায় ঘরে ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে গুলি

দুর্ঘটনার পর পথচারী ও রিকশার অপর এক যাত্রী মুমূর্ষু অবস্থায় মুক্তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে স্বামী লিমন হোসেন সেখানে ছুটে যান, কিন্তু সেখানে চিকিৎসা সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় তাকে দ্রুত টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষে সেখান থেকে দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মুক্তা আক্তারের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে; তিনি আব্দুল জলিলের মেয়ে। তবে কোনো কোনো সূত্রে তাকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ফরহাদপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্বামী লিমন হোসেন পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক। আসন্ন ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেওয়ায় নিহতের পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মাথায় ও কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বর্তমানে ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। 

তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়