News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ২৩ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

কুষ্টিয়ায় বোতলের ক্যাপ ছোড়া নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয়র বোতলের ক্যাপ ছোড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাতজন ছররা গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। 

রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার শুরু হয় রোববার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে। সেখানে রতন শেখ নামের এক যুবক কোমল পানীয় পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে তা কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে রতন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। পরে কাসেটের ছেলে মামুন এবং স্থানীয় কৃষক আলম শেখ এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও স্থানীয়রা সকালে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দেন, তবে ভেতরে-ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সকালের ঘটনার জের ধরে এবং পূর্বশত্রুতার কারণে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রতন, ইয়ারুল শেখ ও নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের অনেকের মাথায় হেলমেট এবং হাতে ঢাল, সড়কিসহ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে অস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় মাঠে থাকা কৃষক ও স্থানীয়রা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত

এই হামলায় আলম শেখের পক্ষের অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতরা হলেন মো. রাব্বি (২২), মো. ওবায়দুল্লাহ (৩০), জনি শেখ (২০), শারুফ শেখ (২০), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবায়দুল্লাহ শেখ (৫৫)।

আহতদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে গুরুতর অবস্থায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে একাধিক ছররা গুলির ক্ষত রয়েছে এবং একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

আহত রাব্বি জানান, তার শরীরে অন্তত ২২টি ছররা গুলির চিহ্ন রয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তুচ্ছ ঘটনা এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হামলার পর থেকে অভিযুক্ত রতন ও ইয়ারুল শেখসহ সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়