News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ২৩ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েও জ্বালানি তেলের আমদানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে, ফলে সংকটের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে টানা দুই দিন সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বাজারে সাময়িকভাবে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে এখন সরবরাহ চেইন সচল রয়েছে। 

কোনো পাম্প স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই তেল পাবেন, তাই প্যানিকড হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রয়োজন নেই। 

এদিকে, জ্বালানি তেল না পেয়ে পাম্পের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় একজন যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিয়ে ভিন্ন দাবি তুলেছেন পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা। 

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটেও পেট্রোল পাম্প বন্ধের কোনো আশঙ্কা নেই

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল সময় সংবাদকে জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়েছে। 

তার দাবি অনুযায়ী, মোট চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগ তেলও সরবরাহ করা হচ্ছে না। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে পাম্প খোলা থাকলেও, সরবরাহের অভাবে অনেক জায়গায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সাময়িক এবং স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। 

তিনি বলেন, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে একটি মহল দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা করছিল, সরকার তা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। 
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঈদের আগে সংকটের কিছুটা শঙ্কা থাকলেও সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। পাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের মতো এখনো জোরদার রাখা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর একটি বৈশ্বিক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়