News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:১৭, ২৩ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকটেও পেট্রোল পাম্প বন্ধের কোনো আশঙ্কা নেই

জ্বালানি সংকটেও পেট্রোল পাম্প বন্ধের কোনো আশঙ্কা নেই

ফাইল ছবি

দেশে পেট্রোল পাম্প পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে টান পড়ায় সংকটে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। মূলত পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় নতুন করে তেলের ‘পে-অর্ডার’ করতে পারছেন না মালিকরা। ফলে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল উত্তোলন করতে পারছেন না পাম্প মালিকরা, যার কারণে সারাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মজুত থাকা তেল দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এ কারণে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে সীমিত আকারে তেল বিতরণ করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সারাদেশের পেট্রোল পাম্প

এর আগে, রবিবার (২২ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পেই পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে। কোম্পানি থেকে সরবরাহকৃত দৈনিক তেলের পরিমাণ দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একইসঙ্গে টানা দায়িত্ব পালনের কারণে পাম্পে কর্মরতরা শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্যমতে, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন মজুত ছিল, অন্য একটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক অবস্থায় এসব মজুত কয়েক দিন চলার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক পাম্পকে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এদিকে, জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে কিছু লোক পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনায় লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পাম্প বন্ধ না হলেও সরবরাহ সংকট, অতিরিক্ত চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের জ্বালানি খাতে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়