News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৭, ২২ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ২০:০৮, ২২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতেও বন্দরে ২২ দিনে ২৫ জাহাজ জ্বালানি খালাস

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতেও বন্দরে ২২ দিনে ২৫ জাহাজ জ্বালানি খালাস

ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান চরম অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা রাখছে চট্টগ্রাম বন্দর। বিশ্ববাজার ও সরবরাহ চেইন নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে বন্দর দিয়ে মোট ২৫টি জাহাজের জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে ওমান থেকে আসা এলপিজিবাহী একটি জাহাজের খালাস চলছে এবং বহির্নোঙরে থাইল্যান্ড থেকে আসা বেস অয়েলের আরও একটি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আরও দুটি বিশাল জ্বালানিবাহী ভেসেল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ও মেরিন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত খালাস হওয়া ২৫টি জাহাজে মূলত ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও এলএনজি ছিল। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা, কলকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই জ্বালানিগুলো মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। 

শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে বন্দরে জাহাজের আগমনে কোনো স্থবিরতা নেই এবং খালাস প্রক্রিয়াও আগের চেয়ে দ্রুততর করা হয়েছে।

রবিবার (২২ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি জানিয়েছেন, একটি জাহাজ সময়মতো খালাস হওয়া মানে দেশের কোটি কোটি টাকার সাশ্রয় এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা। 

তিনি বলেন, মার্চ মাসে এ পর্যন্ত ২৫টি জাহাজের সফল খালাস আমাদের লজিস্টিক সক্ষমতার প্রমাণ। বর্তমানে ওমান থেকে আসা ‘এলপিজি সেভান’ জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস চলছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটি বহির্নোঙরের ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জাহাজ

এদিকে, বন্দরের ‘ভেসেল অ্যারাইভাল লগ’ এবং শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, ‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’ নামে আরও দুটি বড় জাহাজ আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই ভেসেলগুলোর জ্বালানি মজুদে যুক্ত হলে চলমান সেচ মৌসুম ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সংকটের আশঙ্কা থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে আমদানিকারকদের। 

বন্দর সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বুকিং থাকা সত্ত্বেও চারটি এলএনজিবাহী জাহাজ আসতে পারছে না। বিশেষ করে ‘লিব্রেথা’ নামের একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও আটকে আছে এবং ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামের আরেকটি জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। 

এলএনজির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫টি জাহাজে প্রায় ৩ লাখ টন এলএনজি এলেও চলতি মাসে এলএনজি আমদানিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ সাময়িকভাবে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার থেকে চড়া মূল্যে এলএনজি কার্গো কিনছে সরকার। যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলার, সেখানে বর্তমানে গানভর কোম্পানি থেকে ২৮ ডলার এবং সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া থেকে ২৪.৫০ ডলারে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানির শুল্কায়ন হয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে কাতার থেকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিকূল বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যেও এক মাসের কম সময়ে ২৫টি জাহাজের খালাস সম্পন্ন করা একটি বড় সাফল্য। এটি দেশের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। আমদানির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং পথে থাকা জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা এবং উৎপাদনশীল খাতের গতি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়