রেলক্রসিংয়ে ডিজিটাল গেট, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন ও বাস সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) গেট সিস্টেম প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ (মতান্তরে চুয়াডাঙ্গা) থেকে নোয়াখালী অভিমুখী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত এক কিলোমিটার (কারও মতে আধা কিলোমিটার) টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে বাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ২৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবে সরকার। চিকিৎসাধীন ৮ জনসহ সকল আহতের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২
প্রাথমিক তদন্তে কর্তব্যরতদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে দুইজন গেটম্যান ও একজন স্টেশন মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় ও জোনাল পর্যায়ে দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটিসহ মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্তে কারও বিন্দুমাত্র গাফিলতি পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, রেলওয়ের অনুমোদনহীন ক্রসিংগুলোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্রুত সেখানে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে সরকার এনালগ পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় রেলগেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন সিস্টেমে ট্রেন আসার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট পড়ে যাবে, তবে নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে গার্ডও দায়িত্ব পালন করবেন।
হাইওয়ে সড়কগুলোতে সরাসরি রেল ক্রসিং রাখা অনিরাপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে সম্ভব সেখানে ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে পদুয়ার বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক আন্ডারপাসের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও বাস চালক কেন রেললাইন ব্যবহার করলেন, সেটিও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রেজা হাসান এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








