News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ২২ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ১০.৫% পতন, দেশে ভরিতে কমলো ১৫ হাজার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ১০.৫% পতন, দেশে ভরিতে কমলো ১৫ হাজার

ফাইল ছবি

ঈদের দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় স্বর্ণ–রূপার বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতি আউন্সে ৫২৬ ডলার বা ১০.৫ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই বড় পতনের ধাক্কায় বাংলাদেশের বাজারেও একদিনে দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের দামে এটাই সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে চলতি মাসের শুরুতে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু এরপর মূল্য সমন্বয় ও বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার কারণে দাম স্থিতিশীলতা হারাতে শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস’ সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১০৯ ডলার কমে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। একদিন আগে এটি ৪ হাজার ৬০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছিল। এর ফলে এক দিনে সোনার মূল্য ২.৩৬ শতাংশ কমেছে।

দেশের বাজারেও একই সঙ্গে স্বর্ণের দর কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) একদিনে দু’বার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। সর্বাধিক ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা পর্যন্ত হ্রাসের ফলে ২২ ক্যারেট মানের সোনার ভরি কমে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় নেমে এসেছে। এই ধার্যকৃত নতুন দামের ভিত্তিতে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ দুই হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৬ ঘণ্টায় দুই দফা কমলো সোনার দাম

রূপার বাজারেও একই সঙ্গে দর সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই দরপতনের পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতিও প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার কমানোর বদলে স্থিতিশীল রাখার পরিকল্পনা করছে। এতে বন্ড বা অন্যান্য বিনিয়োগে আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়, যা স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ক্রমশ দাম বাড়ার প্রবণতা কমায় অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিতে সোনা বিক্রি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমেছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক কারণে স্বর্ণ ও রুপার দর উল্লেখযোগ্য হারে পতন করেছে। দেশের বাজারে বাজুসের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আজও এই হ্রাসকৃত মূল্যে স্বর্ণ ও রূপার লেনদেন হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়