প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি
ছবি: সংগৃহীত
আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নীতিমালায় এই নির্দেশনাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এই নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০টি নির্দেশনা। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে আচরণের নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
পরীক্ষার বিস্তারিত
বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে প্রতিটি বিষয় ১০০ নম্বরের এবং সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ + ৫০ = ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
বৃত্তি দুই ধরনের ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। উভয় ক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী নির্বাচিত হবেন। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ দফা নির্দেশনা
১. পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
২. পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।
৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় (ওএমআর) নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না।
৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে; অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫. উত্তরপত্রে নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা সাংকেতিক চিহ্ন ও অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর লেখা যাবে না।
৬. খসড়ার জন্য অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না; প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়া করতে হবে।
৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, দেহ বা অন্য কোথাও লিখতে পারবে না।
৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত হল ত্যাগ করা যাবে না।
৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে হল ত্যাগ করতে হবে।
১০. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্য নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: ৮ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনে উদ্বেগ ইউটিএলের
পরীক্ষা চলাকালে আচরণের নির্দেশিকা
পরীক্ষার হলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না। প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না এবং অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না। উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে পরীক্ষা হল ত্যাগ করা যাবে না। উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা বিনষ্ট করা যাবে না।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








