News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:২০, ১৬ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৬:২১, ১৬ মার্চ ২০২৬

পর্যায়ক্রমে সব স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ চালুর ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

পর্যায়ক্রমে সব স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ চালুর ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একইসঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত বা ‘সিঙ্গেল কারিকুলামের’ আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক দক্ষতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা খাত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং ঝরে পড়া রোধে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মিড ডে মিল কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের সকল উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই কর্মসূচি শুরু করা হবে। পরবর্তী ধাপে এর পরিধি বাড়িয়ে দেশের প্রতিটি বেসরকারি ও অন্যান্য পর্যায়ের স্কুলেও তা বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার চায় শিক্ষার্থীরা যেন একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা শিক্ষাকে একটি সিঙ্গেল কারিকুলামের দিকে নিয়ে যেতে চাই। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা ইবতেদায়ী যে মাধ্যমেই শিশু পড়ুক না কেন, ১২ বছরের শিক্ষাজীবন শেষে যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী সমানভাবে দক্ষ ও যোগ্য হয়ে ওঠে। আমাদের মূল লক্ষ্য ভাষাগত দক্ষতা, গণিতের জ্ঞান এবং নৈতিকতার উন্নয়ন। এমনকি আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক মেডেল জয় করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং সংস্কৃতি এবং খেলাধুলাকে মূল কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ শুরু করেছে সরকার। আগামী জুন মাস থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাবে। একইসাথে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে প্রতিটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর হাতে উন্নত প্রযুক্তি বা টেকনোলজি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোচিং নির্ভর শিক্ষার কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ভবনের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে কোচিং করার সংস্কৃতি সরকার আর দেখতে চায় না। আমরা আশাবাদী, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে কোচিং প্রথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। 

তিনি আরও জানান, সরকার প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষায় ৯৬ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির পর লটারি পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া পথশিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে ‘শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং রমজানের ছুটির ক্যালেন্ডার নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ছুটির তালিকাটি বিগত সরকারের করা, তবে দেশের বাস্তবতা ও জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে দ্রুতই শিক্ষা ক্যালেন্ডারে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়