এসএসসি আইন সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা নিষিদ্ধের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষার বিদ্যমান আইন সংস্কার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে মন্ত্রী বা বিশিষ্ট অতিথিদের আগমনে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া এবং ফুলের মালা বা তোড়া প্রদানের সংস্কৃতিকে 'শতভাগ নিষিদ্ধ' ঘোষণা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের করা এসএসসি তথা পাবলিক পরীক্ষার আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে এই আইন পরিবর্তনের কাজ চলছে।
ড. মিলন বলেন, আমরা পাবলিক পরীক্ষার আইনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। বর্তমান সংসদে যদি এটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব নাও হয়, তবুও পরীক্ষা পদ্ধতিকে আমরা একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে রাখব।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এই নতুন আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে এটি কার্যকর হবে। তবে চলতি বছরের পরীক্ষাগুলো যাতে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আসার পথে শিক্ষার্থীদের রোদে পুড়িয়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত শিক্ষকদের নির্দেশ দেন শিক্ষার্থীদের দ্রুত ছুটি দিয়ে ক্লাসে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।
মন্ত্রী বলেন, আমি সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করতে চাই। আমার জন্য কোনো ছাত্র-ছাত্রীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। কোনো শিক্ষক কখনো শিক্ষার্থীদের রোদে দাঁড় করাবেন না। ফুলের মালা বা তোড়া দেওয়ার যে সংস্কৃতি, তা আজ থেকে শতভাগ নিষিদ্ধ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি পরম মমতায় বলেন, তোমরা আর কখনো রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়াবে না। তোমাদের রাস্তায় এসে শুভেচ্ছা জানানোর দরকার নেই। আমি নিজেই স্কুলে স্কুলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে দেখা করব এবং তোমাদের পড়াশোনার খোঁজ নেব।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। বরং এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে একটি ত্রি-স্তরীয় যাচাই পদ্ধতি নিয়ে ভাবছে সরকার। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এরপর জেলা প্রশাসক (ডিসি) যাচাই করবেন এবং সবশেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ওই ব্যক্তির শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী পরিচয় নিশ্চিত করে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মতো দক্ষ ও সমাজসেবী ব্যক্তিদেরও কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের চেক বিতরণ করেন। এছাড়া উপজেলা সমাজকল্যাণ কমিটি ও রোগী কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে অসহায় রোগীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন তিনি। দিনশেষে তিনি কচুয়া বড় মসজিদে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি খাইরুল আবেদিন স্বপন, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ এবং স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








