News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০০, ২৫ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৮:০১, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইরানি আগ্রাসন আর সহ্য করা হবে না: জাতিসংঘে সৌদি আরবের চরম হুঁশিয়ারি

ইরানি আগ্রাসন আর সহ্য করা হবে না: জাতিসংঘে সৌদি আরবের চরম হুঁশিয়ারি

আব্দুল মোহসেন মাজেদ বিন খোথাইলা। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তেহরানের এই আগ্রাসন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

জাতিসংঘে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আব্দুল মোহসেন মাজেদ বিন খোথাইলা বলেছেন, এসব হামলা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর জন্য ইরানকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

বুধবার (২৫ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। 

আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সৌদি প্রতিনিধি জানান, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলো বর্তমান ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাতের সরাসরি কোনো পক্ষ নয়। তাসত্ত্বেও এসব দেশ ও তাদের বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।

বিন খোথাইলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশকে আঘাত করা শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করা সুসম্পর্কের নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের হামলা নীরবে মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে পাকিস্তানি তেলবাহী জাহাজ আটকে দিলো ইরান

বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগও তোলেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। উল্লেখ্য, গত মার্চের শুরু থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং কেবল নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে।

এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, বিশ্বের মোট দৈনিক তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। 

সৌদি আরবের মতে, এই নীতি ইরানের কোনো উদ্দেশ্য সফল করবে না, বরং তাদের নিজেদের ভুল হিসাব-নিকাশ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। তবে এই সংঘাতের রেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধরত পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

রয়টার্স ও আল জাজিরা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে সৌদি প্রতিনিধি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে ইরানকে অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক নীতি ত্যাগ করতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়