News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৬, ২৪ মার্চ ২০২৬

নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরান হামলার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরান হামলার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

ফাইল ছবি

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবং তেহরানে ‘ডিক্যাপিতেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল অভিযানের নেপথ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই যুদ্ধে রাজি করাতে খামেনিকে হত্যার সুযোগ এবং ইরানে দ্রুত সরকার পতনের এক ‘আশাবাদী চিত্র’ তুলে ধরেছিলেন নেতানিয়াহু। মূলত মোসাদের গোয়েন্দা তথ্য এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের সমীকরণ মিলিয়েই শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পেশ করেন। 

তিনি দাবি করেন, ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই সেখানে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দিয়ে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব। গত জানুয়ারিতে নেতানিয়াহু এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’ এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, তবুও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু একমত হন যে, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে ইরানি জনগণই রাজপথে নেমে এসে ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে।

হামলা শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপনীয় ফোনালাপ হয়। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে নিজের কম্পাউন্ডে শীর্ষ সহযোগীদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। নেতানিয়াহু এই সুযোগটিকে ‘ইতিহাস গড়ার সুযোগ’ হিসেবে ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেন। 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দমে বড় পতন

তিনি যুক্তি দেন যে, এটি কেবল যুদ্ধের কৌশল নয়, বরং ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের কথিত ষড়যন্ত্রের এক মোক্ষম প্রতিশোধ হবে। 

উল্লেখ্য, আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যার বদলা নিতে ইরান একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ এনেছিল। এই ব্যক্তিগত প্রতিশোধের বিষয়টি ট্রাম্পকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চূড়ান্ত আদেশ দেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানে প্রথম বোমা আঘাত হানে। ওইদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেন। 

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা, নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করা। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই অভিযানকে অনেকটা ‘ব্যক্তিগত বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেন যে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ হাসি প্রেসিডেন্টই হাসলেন।

নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানে সরকার পতন ঘটানোর লক্ষ্য থাকলেও, সিআইএ-র পূর্বাভাস অনুযায়ী কট্টরপন্থী কর্মকর্তারা এখনো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যুর পরও ইরান সরকার ভেঙে পড়েনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। 

অন্যদিকে, যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা হতাশ। মোসাদ তাদের ‘শাসন পরিবর্তনের’ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে না পারায় তিনি উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প যেকোনো সময় যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। এদিকে রাশিয়া এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজেস্ব অবস্থান থেকে নেতানিয়াহু একে ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিলেও আন্তর্জাতিক মহলে এখন স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত রসায়ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের এক জটিল সমীকরণই মধ্যপ্রাচ্যকে এই ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়