শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রবিবার, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ক্লাসের পরিকল্পনা
ফাইল ছবি
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলেও এখনো বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। টানা ছুটির পর আগামী রবিবার (২৯ মার্চ) থেকে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এর ফলে দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে পবিত্র রমজান ও ঈদের এই দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে বড় ধরনের ‘শিখন ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষা প্রশাসনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ক্লাস নেওয়া হবে, নাকি বাড়তি পিরিয়ড সংযোজন করা হবে এ দুটি বিকল্প নিয়েই বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে।
এবারের রমজানে ছুটির সূচি নির্ধারণকে ঘিরে শুরুতেই কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শিক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫ রমজান পর্যন্ত স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে। তারা ছুটির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান, কারণ মাদ্রাসাগুলোতে পুরো রমজান মাসজুড়ে ছুটি কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে এই বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পুরো রমজান মাস ছুটি ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ১০ দফা নির্দেশনা জারি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির ফলে সৃষ্ট পড়াশোনার ‘গ্যাপ’ কীভাবে কার্যকরভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ছুটি পুনঃসমন্বয় করা হবে নাকি অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে ছুটি ঘোষণার সময়ই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা হাতে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি হতে পারে। আপাতত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি এখন রবিবারের দিকে, যখন দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








