এক-এগারোর অন্যতম হোতা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ গ্রেফতার
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
এক-এগারোর পটপরিবর্তনের অন্যতম নেপথ্য কারিগর এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তিনি গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। এই কমিটির অধীনে তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। পরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে নিযুক্ত হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করে এবং পরবর্তীতে তিন দফায় তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। অবসর গ্রহণের পর মাসুদ উদ্দিন ঢাকায় ট্রাভেল এজেন্সি, রেস্তোরাঁ এবং জনশক্তি রফতানিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ে যুক্ত হন। তিনি নানা দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যক্রমের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নজরদারির বিষয়বস্তু ছিলেন।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে প্যারেড স্কয়ারে থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
রাজনৈতিক জীবনে, মাসুদ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন গ্রহণ করে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগেই তিনি জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় জাপার মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেফতারের সময়, ডিবির একটি দল বারিধারা ডিওএইচএসের ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যাসহ নানা মামলা থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর স্থানীয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সোনাগাজী বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেন।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, মাসুদ উদ্দিন তাদের দলের প্রতি সহমর্মিতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ক্ষমতা প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সেনা জীবনে, মাসুদ উদ্দিন ১৯৭৫ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এক-এগারোর সময় তিনি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ সময় জাতীয় সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে তিনি দেশে গুরুতর অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারি চালানো হতো।
গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ডিবি দেশের বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের পথে শীর্ষস্থানীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








