জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান
ফাইল ছবি
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং বর্তমানে চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে সরকার। তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো অবকাশ নেই।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক বিবৃতিতে বলেন, দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনে হলেও সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে এবং আমদানির এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ছেদ পড়ার যৌক্তিক কারণ নেই।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মজুতের প্রকৃত ও গাণিতিক চিত্র তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত আছে। এর বাইরে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের অপেক্ষায় রয়েছে আরও প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল।
আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এই বিদ্যমান মজুত দিয়ে নতুন কোনো সরবরাহ ছাড়াই আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের স্বাভাবিক জাতীয় চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। যেহেতু আমদানিকৃত একাধিক তেলবাহী জাহাজ বর্তমানে পাইপলাইনে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বন্দরে ভিড়ছে, তাই সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্য ও অপপ্রচারে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং জনমনে ভীতি সঞ্চার করছে।
প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যারা গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় দেশবাসীকে কেবল সরকারি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। হুজুগে বা আতঙ্কে প্ররোচিত না হয়ে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিকভাবে তেল সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








