ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার, শ্যামলীর ডক্টরস কেয়ার সিলগালা
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শ্যামলীর কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত ‘ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’-এ ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ ভয়াবহ সব অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ার পর জনস্বার্থে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
বিকেল ৪টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালটিতে পৌঁছে বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তার উপস্থিতির খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী হাসপাতালে এসে জড়ো হন এবং চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সরেজমিন পর্যবেক্ষণে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, পুরো হাসপাতালটি একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
তদন্তে উঠে আসে, হাসপাতালটিতে যারা অস্ত্রোপচার করতেন, তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সরকারি হাসপাতালের দালাল, কেউ চিকিৎসকের চেম্বারের কর্মচারী। এমনকি অষ্টম শ্রেণি পাস এক ব্যক্তি ‘অর্থোপেডিক সার্জন’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন বলেও জানা যায়। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং এরই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শনে যান।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটি সিলগালা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। মন্ত্রী নিজে রোগীদের স্থানান্তরের দিকনির্দেশনা দেন কয়েকজনকে পঙ্গু হাসপাতালে, দুই শিশুকে শিশু হাসপাতালে এবং অন্য রোগীদের সোহরাওয়ার্দীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। এক ডায়াবেটিস রোগীকে তার স্বজনদের অনুরোধে পপুলার হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টিও অনুমোদন দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ‘জুনের মধ্যেই চালু হচ্ছে জাতীয় ই-হেলথ কার্ড’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর শ্যামলী থেকে আসাদগেট এলাকা দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ সারা দেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।
অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও সেবার মান যাচাই করা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশোধনের জন্য ৭২ ঘণ্টা থেকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে, এর মধ্যে উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তার ভাষ্য, উন্নতি চাই, কারও শাস্তি চাই না মানুষ যেন সঠিক সেবা পায়, সেটাই লক্ষ্য।
এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে চলমান অনিয়ম বন্ধে সমন্বিত টিম গঠন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, অনুমোদন ও মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে, অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের সংখ্যা এখনও অপর্যাপ্ত। স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি কিছুটা সময় চেয়ে নেন এবং বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








