‘সিভিল সার্জনদের অফিসে বসে থাকা চলবে না, যেতে হবে ভিজিটে’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকরা যদি তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের স্থানে কাজ করার সুযোগ পান, তবে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও নিরবিচ্ছিন্ন করতে চিকিৎসকদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী জায়গায় পোস্টিং দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র অফিসে বসে সময় পার করলে চলবে না। নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে (ভিজিট) যেতে হবে। ইতিমধ্যে সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিংয়ে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য খাতের সকল স্তরের জনবলকে সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে কোনো আপস করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: অনুমতিহীন পেশায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শিক্ষামন্ত্রী
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জনবল সংকট দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান শূন্যপদগুলো দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দেশের যেসব হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ে আছে, সেগুলো পুনরায় সচল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি নরসিংদীর ১৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের কথা উল্লেখ করেন, যা অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।
তিনি জানান, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সারা দেশে এমন অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা হবে, যাতে মায়েরা ঘরোয়া পরিবেশেই প্রাথমিক সকল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন। একইসাথে মায়েদের ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মনোহরদী উপজেলায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম.এ. মুহাইমিন আল জিহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








