News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৯, ৪ মার্চ ২০২৬

শিশু আয়ানসহ একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত

শিশু আয়ানসহ একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চিকিৎসায় গাফিলতি, ভুল রিপোর্ট এবং পেশাগত আচরণবিধির লঙ্ঘনের দায়ে ১০ জন চিকিৎসকের নিবন্ধন বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। 

রাজধানীর সাঁতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের পেশাগত নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। একই সঙ্গে পৃথক ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আরও আট চিকিৎসকের নিবন্ধন বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত করা হয়েছে।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে গত ১ ও ৪ মার্চ এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বুধবার (০৪ মার্চ) প্রকাশিত নোটিশে জানানো হয়, কাউন্সিলের ৫৪তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আয়ান আহমেদের চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় সরাসরি ‘চিকিৎসা অবহেলা’ প্রমাণিত না হলেও সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসকের মধ্যে ‘পেশাসুলভ আচরণের ঘাটতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ধারা ২৩(১) এবং বিএমডিসি প্রবিধানমালা, ২০২২-এর বিধান ৩৬(৪)(খ) অনুযায়ী তাদের নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে বাতিল ও রেজিস্টার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নিবন্ধন স্থগিত হওয়া দুই চিকিৎসক হলেন ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাসনুভা মাহজাবিন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ। আইনের ধারা ২২(১) অনুযায়ী, ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশ চলাকালে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা প্রদান করতে পারবেন না এবং নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ারও আইনগত সুযোগ থাকবে না।

আরও পড়ুন: ‘সিভিল সার্জনদের অফিসে বসে থাকা চলবে না, যেতে হবে ভিজিটে’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ানকে সুন্নতে খৎনার জন্য ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। পরে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা আট দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি চিকিৎসক তাসনুভা মাহজাবিন ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট সৈয়দ সাব্বির আহমেদের দায় নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। তদন্তে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটি যথাযথ নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছিল; পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের পৃথক চার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু এবং একজনকে ভুল চিকিৎসা-প্রতিবেদন দিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আরও আট চিকিৎসকের পূর্ণ নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিএমডিসি। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টারের ডা. ইশতিয়াক আজাদ ও ডা. এস এম মুক্তাদিরের নিবন্ধন দুই বছরের জন্য, ঝিনাইদহের শৈলকুপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতাল ও ছন্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. তৌহিদুর রহমান ও ডা. সোহেলী ইসলামের এক বছরের জন্য এবং বাকি চিকিৎসকদের ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মালিবাগের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে ১০ বছর বয়সী আহনাফ তাহমিদ আয়হামের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, বাবার অনুমতি ছাড়াই তাকে ফুল অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া হয়েছিল। অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় স্বজনদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ডা. এস এম মুক্তাদির ও ডা. মাহবুব মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়