বৈশ্বিক বর্ণবাদ নির্মূল ও মানবাধিকার রক্ষায় আহ্বান বাংলাদেশের
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ নির্মূল, সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানব মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বৈশ্বিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্মারক সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এবং ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান বর্ণবাদমূলক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী ঐতিহাসিক ‘ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার’ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও প্রত্যাশিত সাফল্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এই মানবিক সংকটগুলো নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ‘কৃত্রিম চাহিদার কারণে মূলত জ্বালানি তেলের সংকট’
জাতিসংঘের মূল আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা, শোষণ এবং ন্যায়বিচারে তাদের সীমিত প্রবেশাধিকার এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বৈষম্য ও অন্যায় প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের অটুট অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শুরু থেকেই বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যবিরোধী সব প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে।
দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি।
বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তিনটি বিশেষ দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বর্ণবাদবিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বা অনলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য (হেট স্পিচ) কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








