News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:০৫, ২৪ মার্চ ২০২৬

‘কৃত্রিম চাহিদার কারণে মূলত জ্বালানি তেলের সংকট’

‘কৃত্রিম চাহিদার কারণে মূলত জ্বালানি তেলের সংকট’

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই আশ্বস্তবাণী শোনান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি না থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুত করার ফলে পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে। 

তিনি বলেন, ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আমরা স্বাভাবিক নিয়মেই সরবরাহ বজায় রেখেছি, কিন্তু হঠাৎ চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় কিছু পাম্পে সাময়িক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এটি মূলত মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়ার ফল। অকারণে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

জ্বালানি সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার দাবি নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, তেল সংকটে কি কারও গাড়ি বন্ধ হয়ে গেছে? সদ্য সমাপ্ত ঈদে ঘরমুখো মানুষের কোনো বাস কি তেলের অভাবে থেমে ছিল? 

তিনি উল্লেখ করেন, উৎসবের সময় বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি, যা প্রমাণ করে দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চের কুচকাওয়াজসহ আসন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিগুলো সামনে রেখে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান

বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর সরকার কড়া নজর রাখছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারের আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে 

তিনি জানান, এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। 

তিনি স্পষ্ট করেন যে, দাম নির্ধারণের বিষয়টি মূলত এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেখে থাকে এবং সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিতের বিষয়ে মার্কিন ঘোষণা আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৭ ডলার বা ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত হওয়ায় বাজারের অস্থিরতা কমতে শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংকট আমরা তৈরি করিনি, আমরা জ্বালানি আমদানি করি। পৃথিবীতে একটা গোলমাল লেগেছে, তাই আমাদের সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় জ্বালানি ক্রয়ের জন্য তিনি পুনরায় অনুরোধ জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়