News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৫, ২৪ মার্চ ২০২৬

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও ১৩৩ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করবে সংসদ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও ১৩৩ অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করবে সংসদ

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে জাতীয় সংসদ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা দিতে বিশেষ ‘দায়মুক্তি’ (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক বিতর্কিত নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়টিকেও নীতিগতভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে নবগঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানান, জনগণের প্রত্যাশা এবং জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। 

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের যে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সরকার গ্রহণ করবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা এবং বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে। গত ১৫ মার্চ গঠিত ১৪ সদস্যের এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা। মূলত কোন অধ্যাদেশটি জনস্বার্থে বহাল রাখা প্রয়োজন এবং কোনটি বাতিল করা উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বৈশ্বিক বর্ণবাদ নির্মূল ও মানবাধিকার রক্ষায় আহ্বান বাংলাদেশের

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। 

সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, উত্থাপনের পর থেকে মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিশেষ কমিটিকে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ চূড়ান্ত করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণের বিষয়টিও এই কমিটির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের দাবির মুখে বিতর্কিত সব নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে বাস্তবায়িত হবে এবং কোনটি ধাপে ধাপে এগোবে, তা এই পর্যালোচনায় নির্ধারিত হবে।

এদিকে, এই আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েব আমির মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, তার দল সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশে সুপারিশ করবে না। ফলে সংসদের এই বিশেষ কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেওয়া বিভিন্ন আইনি সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ এবং দেশের নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়