News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৩৪, ২৪ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৪:১১, ২৪ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ট্রাম্পের বার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ‘ইতিবাচক’ বার্তায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির আভাস মিলেছে। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে আপাতত হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নাটকীয় পতন ঘটেছে। একইসঙ্গে গত কয়েকদিনের টানা দরপতন কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে শুরু করেছে ইউরোপ ও আমেরিকার পুঁজিবাজার। তবে তেহরান আলোচনার খবর অস্বীকার করায় বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো সংশয় বিরাজ করছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৩ মার্কিন ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনার দাবি করার পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। 

সোমবার দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। আজ মঙ্গলবার সকালে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা গতকালের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১০ ডলার কম। 

তবে রয়টার্সের তথ্যমতে, ইরান আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার দিনের শুরুতে দাম ফের কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

ট্রাম্পের বিবৃতিতে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। এর প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারে সূচকের বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক দিনের শুরুতে বড় পতনের মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। এছাড়া জার্মানির ড্যাক্স ১.২ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি ০.৯ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাউ জোন্স সূচকেও প্রায় ১.৪ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে। তবে ট্রাম্পের পোস্ট আসার আগেই এশিয়ার বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি; বরং জাপানের নিক্কেই ৩.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ৬.৫ শতাংশ দর হারিয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৯৭০-এর দশকের চেয়েও ভয়াবহ বিশ্ব তেল সংকট: আইইএ’র সতর্কতা

সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, দুই দেশ একটি ‘সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক’ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা করেছে এবং তিনি আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। 

তাদের মতে, এটি বাজারকে প্রভাবিত করার একটি অপকৌশল মাত্র। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নৌপথ খুলে না দেওয়া হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট বা ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে। 

ওয়েলথ ক্লাবের বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার মনে করেন, তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তারা চরম চাপের মধ্যে থাকবেন। 

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদহারও ৫.১২ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল, যা পরবর্তীতে কিছুটা কমে ৪.৯ শতাংশে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নমনীয় সুর সাময়িকভাবে বাজারকে স্থিতিশীল করলেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার ওপরই বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়